The Pioneers Of Progress: Mujibul Haque

Whatever my age may be, I would never want it to affect my work life. Many of us tend to say things like, “I’m old enough to quit now.” In my case, this is never going to happen. I’m earning from the ride sharing business, and at the same time, I’m working on other projects too.

*Name: Mujibul Haque
*Hometown: Bikrompur

Tell something about your childhood:

I spent my childhood very differently. I was thirteen years old when the Liberation War begun. The Freedom Fighters’ camp was home for me for quite some time. I assisted them in many different ways, one of which included managing the food. When the war ended, I concentrated on farming. However, one of my uncles realized that if we, my six siblings, didn’t go to Dhaka, our education would be in jeopardy. So, we moved to the capital with his assistance.

How did Pathao bring changes to your life?

My brothers had to go abroad to alleviate our family’s economic hardships. I lived in Saudi Arabia for 17 years. I used to drive limousine taxis over there. It was a very difficult time for me since I desperately wanted to be with my family. When I returned home after many years, my mother did not let me go back. Although I decided to stay back, what was I supposed to do here? Regular jobs didn’t attract me at all. I wanted to do something like my previous job in Saudi Arabia. However, I did not get such opportunity in Bangladesh. One day, a friend of mine informed me that he discovered a service called ‘Pathao’ on Facebook. I considered all the possibilities and handed in my registration. I already had a bike, and it was about time I put it to good use. There is nothing more peaceful than being able to stay close to family here and at the same time do the job of my choice.

Tell us about a ride sharing story that you will always remember-

Once, a passenger who happened to be a doctor asked me about how I was still be so fit and good at driving, at the age of sixty. In response, all I said was that it’s Allah’s miracle. The doctor wasn’t satisfied with my answer. He wanted to know more about me, and I also found it a good opportunity to tell him my story. In the meantime, he called someone on his cell phone and instructed to stay at home and not come to get him. Before I could ask him something he said that he told his chauffeur to stay home. He even told me that it takes around 3-4 hours for him to return home. We both began to discuss about Pathao rides. We expressed each others thoughts on how a platform like Pathao brought so much change in people's lives in such a short time. It was his first ride sharing experience that day. In the beginning, I could not believe it so I asked him quite a few times. He laughed and questioned me in return whether just because he is a doctor he has to know everything. Not all people know everything. My journey with the doctor that day was really wonderful.

Do you have anything special to say?

I have my own home and property, I am wealthy enough to bear the educational expenses of all my children and yet, why am I riding a bike at this age? The explanation is that I’m a workaholic. Whatever my age may be, I would never want it to affect my work life. Many of us tend to say things like, “I’m old enough to quit now.” In my case, this is never going to happen. I’m earning from the ride sharing business, and at the same time, I’m working on other projects too. A true freedom fighter’s family believes in hard work, and they believe in facing all the odds in life to live independently. As long as this body breathes, I will continue striving for excellence.

অগ্রযাত্রার অগ্রদূতঃ মুজিবুল হক

বয়স কখনই কাজের জন্যে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। আমরা সবসময় বলে থাকি, বয়স হয়ে গেছে এখন ছেড়ে দেই। আমার পক্ষে তা সম্ভব নয়। বাইক চালিয়ে আয় করছি, তারসঙ্গে কাজও করে যাচ্ছি।

*নাম: মুজিবুল হক
*বাড়িঃ বিক্রমপুর

আপনার ছোটবেলা সম্পর্কে কিছু বলুনঃ

আমার ছোটবেলা কেটেছে খুব অদ্ভুতভাবে। আমার যখন তের বছর বয়স তখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, তাই অনেকদিন মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে ছিলাম। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে খাবার থেকে শুরু করে সব ধরণের কাজে সাহায্য করেছিলাম। যুদ্ধ শেষে আমি কৃষিকাজ শুরু করেছিলাম। তবে একদিন আমার মামা চিন্তা করে বের করলেন আমরা যদি ঢাকায় না আসি তাহলে আমাদের ছয় ভাইবোনের পড়াশুনা হবে না। তাই মামার সহযোগিতায় আমরা হুট করেই ঢাকায় চলে আসি।

পাঠাও কিভাবে আপনার জীবনে পরিবর্তন এনেছে?

সংসার চালানোর জন্য আমাদের তিন ভাইদের বিদেশে গিয়ে আয় করতে হয়েছিল। আমি নিজেই ১৭ বছর সৌদি আরবে ছিলাম। সেখানে লিমো ট্যাক্সি চালাতাম। অনেক কষ্ট হতো। পরিবারকে এক নজর দেখার জন্য আমার মন আঁকুপাঁকু করতো। অনেকদিন পর আমি যখন দেশে আসলাম তখন মা আমাকে যেতে দিলেন না। তবে থেকে যে গেলাম কিন্তু দেশে করবো কি? এই, ওই চাকরী করে ভালো লাগছিল না। সৌদি আরবে যা করে এসেছি ঠিক তেমন কিছু একটা করতে চাচ্ছিলাম। তবে বাংলাদেশে সে সুযোগ পাচ্ছিলাম না। একদিন আমার এক বন্ধু ফেসবুকের মাধ্যমে পাঠাও - এর খোঁজ পেয়েছে বলে আমাকে জানাল। আমি সবকিছু বিবেচনা করে রেজিস্ট্রেশন করে ফেললাম। আগেই বাইক ছিল, এখন তা ব্যবহারের পালা। দেশে, পরিবারের কাছে থেকেই আমার মন মতো কাজ করতে পারছি, এর চেয়ে বড় সুখ কিসে?

এমন একটি রাইডের কথা বলুন যা আপনি সবসময় স্মরণে রাখবেন-

একবার আমাকে এক ডাক্তার যাত্রী হঠাৎ করেই জিজ্ঞেস করেছিলেন, ৬০ বছর বয়সে কিভাবে এতো ফিট হয়ে বাইক চালাচ্ছেন? উত্তরে বলেছিলাম, সবই খোদার কুদরত! তবুও ডাক্তার সাহেব আমার উত্তরে তেমন সন্তুষ্ট হলেন না। তিনি আমার বৃত্তান্ত জানতে চাচ্ছিলেন। আমিও সুযোগ বুঝে তাকে আমার আমার জীবনকাহিনী বলতে লাগলাম। ডাক্তার সাহেব এরই মধ্যে মোবাইলে কাকে যেন ফোন করে বললেন বাসায় চলে যেতে। তিনি আরও বললেন, প্রতিদিন প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা লেগে যায় বাসায় যেতে। আমরা দুজনে পাঠাও রাইড নিয়ে কথা বলা শুরু করলাম। কিভাবে দ্রুত একটি মাধ্যম সবার জীবনে চট করে পরিবর্তন নিয়ে এলো তা নিয়ে নিজেদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করলাম। সেদিন তার প্রথম রাইড ছিল। প্রথমে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল তাই কয়েকবার জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি হাসতে হাসতে বলেছিলেন ডাক্তার হলেই কি সবকিছু জানতে হবে? অনেকেই অনেক কিছু জানে না। ডাক্তার সাহেবের সঙ্গে আমরা সেদিনের যাত্রা ছিল অদ্ভুত সুন্দর।

আপনার কি বিশেষ কিছু বলার আছে?

নিজের জমির উপর নিজের বাড়ি আছে, তিন ছেলেকে পড়ানোর যথেষ্ট অর্থ আছে তবুও আমি কেন ৬০ বছর বয়সে বাইক চালাচ্ছি? কারণ যতই বয়স হোক না কেন আমি কাজপ্রেমী একজন মানুষ। বয়স কখনই কাজের জন্যে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। আমরা সবসময় বলে থাকি, বয়স হয়ে গেছে এখন ছেড়ে দেই। আমার পক্ষে তা সম্ভব নয়। বাইক চালিয়ে আয় করছি, তার সঙ্গে কাজও করে যাচ্ছি। মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের মানুষজন কর্মে বিশ্বাস, তারা সকল বাধাবিপত্তি কে উৎরিয়ে চলাফেরা করে।
যতদিন এই দেহে বল আছে, ততদিন আমি কাজ করে যাব।