The Pioneers Of Progress: Mustafizur Rahman

Happiness is like a rainbow. It has a lot of colours. Sometimes one colour works harmoniously with another, and sometimes it can have destructive effects too. Such is the case with some societal constructs.

*Name: Mostafizur Rahman
*Hometown: Dhaka

Tell something about yourself:

I wasn’t very interested in school during my childhood. I studied as far as I had to. I never need to worry about my livelihood, so I did not put much thought into building a career. However, I’m recognized among my friends as a lover of art and as someone who values talent.

What is your objective behind ride sharing in Pathao?

I never had any major, pre-planned motive for doing this. However, through ride sharing with Pathao, I have tried to bring a little improvement in the lives of some people. Some passengers ask me why I ride with Pathao even though I have such a great car. I answer simply. I tell them that I don’t have any worries regarding my income, but I love driving and serving people at the same time. You can’t provide a ride sharing service to people if you have a lot of money, cars or houses – this is an old misconception in our society. I’m fortunate that all my need are met. I own a house and a car. The wealth I have is thankfully enough to feed even my grandchildren. Yet, I serve people using my car using Pathao. Why? It makes me happy, as simple as that. However I have tried to be a bit different as a Captain. I keep few educational books in my car. When families bring their children along, I hand them these children’s books, and tell them politely that they can read. Some read, while some of them flip through the pages and give them back. The children usually love thumbing through the pages. I don’t have any particular agenda with this, but I like encouraging people to cherish reading.

Tell us about a ride sharing experience that you will always remember-

I wasn’t getting any ride requests that day. Parking my car in a safe place, I started reading. I also checked the app for requests every now and then. After waiting for almost an hour, I finally received one. Putting the book aside, I called the user via the app. The man on the other end was gasping for air as he asked me if I was nearby. After finishing the conversation with him, I went in front of the main gate of a hospital. The man recognized me immediately and told me to wait a bit. After a while, he brought out his mother from inside. Her condition seemed critical. Since it was not possible to treat her in this hospital, they had to move to another hospital right ahead, immediately. I assisted him in carefully helping her get into the car. The man’s face was twisted in fear the entire time. I began to recite supplications in my head. After arriving at the hospital, I got out of car and helped him take his mother to her hospital bed. Amidst all the rush and running around, the man completely forgot about me. I stood next to his mother and made sure she was alright. I don’t differentiate between strangers or relatives when I see someone in pain. I consider it my duty to extend a helping hand. The man noticed me after some time had passed. He hugged me at once, and thanked me for helping him. At that instant, I realized that there can be no other good deed or act better than helping another person out.

Do you have anything special to say?

Happiness is like a rainbow. It has a lot of colours. Sometimes one colour works harmoniously with another, and sometimes it can have destructive effects too. Such is the case with some societal constructs. It’s expected that lavishly dressed people will ride cars, while people with worn-out clothes will drive them. Even an educated man once asked me in surprise why I was driving. I always have the answer ready.

অগ্রযাত্রার অগ্রদূতঃ মোস্তাফিজুর রহমান

ভালো লাগা আসলে রঙধনুর মতো। এর অনেক রঙ আছে। মাঝেমধ্যে একটি রঙের সঙ্গে আরেকটি রঙের সম্মীলন হয়, আবার মাঝেমধ্যে বিবাদ লেগে যায়। আমাদের সমাজের কিছু রীতিনীতি মধ্যে এমনি খেলা হয়।

*নাম: মোস্তাফিজুর রহমান
*বাড়িঃ ঢাকা

আপনার নিজের সম্পর্কে কিছু বলুনঃ

ছোটবেলায় পড়াশোনায় তেমন মনোযোগী না থাকার কারণে বেশিদূর পড়ালেখা না করলেও যতটুকু পড়ার দরকার পড়েছি। শুধু পেটের দায় মিটানোর কোন চিন্তা কখনোই ছিল না আমার মধ্যে। তাই ক্যারিয়ার নিয়ে গম্ভীরভাবে ভেবে দেখেনি। তবে আমি শিল্পপ্রেমিক এবং গুণের সমাদরকারী হিসেবে পরিচিত বন্ধুদের কাছে।

পাঠাও-তে রাইড শেয়ার করার উদ্দেশ্য কি?

আসলে তেমন কোন বড় উদ্দেশ্য নেই। তবে পাঠাও এ রাইড শেয়ার করে আমি কিছু মানুষের জীবনে একটু উন্নয়ন আনতে চেষ্টা করেছি। যেমন আমার গাড়ি দেখে অনেক যাত্রী প্রশ্ন করে, ভাই এই ভালো গাড়ি নিয়ে আপনি পাঠাও চালান? আপনার চালানোর কি দরকার? আমি প্রশ্নের উত্তর খুব সহজভাবে দেই। বলি, আমার রোজগার করার কোন মাথাব্যথা নেই, তবে আমি আনন্দ পাই গাড়ি চালিয়ে এবং মানুষের সেবা দিয়ে। গাড়ি, বাড়ি থাকলে বা ঢের টাকা পয়সা থাকলে সেবা করা যায় না, মানুষকে রাইড দেওয়া যায় না এ হলো সমাজের পুরানো কুসংস্কার। আমার কোন অভাব নেই। বাড়ি আছে, গাড়িও আছে। যা অর্থ-সম্পদ আছে তা দিয়ে আমার নাতি-নাতনিদের ভালো কেটে যাবে, তবুও আমি পাঠাও-তে গাড়ির মাধ্যমে মানুষকে রাইড দেই। কারণ একটাই, আমার ভালো লাগে। আমি একটু ব্যতিক্রমী হওয়ার চেষ্টা করেছি। গাড়িতে কয়েকটি শিক্ষামূলক বই রাখলাম। যারা বাচ্চা নিয়ে উঠে তাদের বাচ্চাদের কিছু শিশুতোষ বই দেই পড়তে। আমি বই দেবার সময় খুব বিনয়ীভাবে বলি, পড়তে পারেন! অনেকেই পড়ে, আবার অনেকেই এক-দুই পৃষ্ঠা দেখে রেখে দেয়। তবে বাচ্চারা আনন্দ নিয়ে বই পড়ে। এখানে আমার কোন নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নেই। তবে আমি মানুষকে বই পড়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে পছন্দ করি।

এমন একটি রাইডের কথা বলুন যা আপনি সবসময় স্মরণে রাখবেন-

সেদিন কোন রাইড পাচ্ছিলাম না। আমি গাড়ি এক জায়গায় পার্ক করে বই পড়ছিলাম। আর মাঝেমাঝে অ্যাপে লক্ষ্য রাখছিলাম কোন রিকোয়েস্ট আসছে কিনা। প্রায় এক ঘণ্টা বসে থাকার পর একটি এলো। আমি বই বন্ধ করে পাশের সিটে রেখে অ্যাপ দিয়ে কল করলাম। লোকটি হাঁপাতে হাঁপাতে জিজ্ঞেস করলেন আমি আশেপাশে আছি কি না। কথাবার্তা সেরে আমি এক হাসপাতালের গেটে গেলাম। লোকটি আমাকে দেখতেই চিনে ফেললেন। আমাকে দাঁড়াতে বলে কিছুক্ষণ পর তাঁর মাকে নিয়ে আসলেন। উনার অবস্থা শোচনীয় ছিল। এই হাসপাতালে চিকিৎসা সম্ভব নয়, তাই সামনের আরেক হাসপাতালে এখনই যেতে হবে। আমি তাকে সাহায্য করলাম তার মাকে ঠিকঠাক মতো করে গাড়িতে উঠাতে। সারা রাস্তায় লোকটির চেহারা ভয়ে কুঁকড়ে ছিল। আমি মনে মনে দুয়া পড়তে লাগলাম। হাসপাতালে চলে এলে আমরা দুজনে মিলে তাঁকে পৌঁছে দেই নির্ধারিত জায়গায়। লোকটি এদিক ওদিক ছুটাছুটি করতে লাগলেন তাই আমার কথা একবারেই ভুলে গেলেন। আমি পাশে দাঁড়িয়ে তার মাকে দেখাশোনা করতে লাগলাম। আমি অপরিচিত বা অপরিচিত কিছু বাছবিচার করি না। একজনের বিপদ হয়েছে আর আমি যদি পাশে থাকি তাহলে অবশ্যই এগিয়ে যাই। লোকটি অনেকক্ষণ পর আমাকে লক্ষ্য করলো। সে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ভাই! আপনি আমার আজকে অনেক বড় উপকার করেছেন। আমার তখন মনে হল কারোর উপকার করার মতো ভালো কাজ, শান্তির কাজ আর একটাও হয়তো হয় না।

আপনার কি বিশেষ কিছু বলার আছে?

ভালো লাগা আসলে রঙধনুর মতো। এর অনেক রঙ আছে। মাঝেমধ্যে একটি রঙের সঙ্গে আরেকটি রঙের সম্মীলন হয়, আবার মাঝেমধ্যে বিবাদ লেগে যায়। আমাদের সমাজের কিছু রীতিনীতি মধ্যে এমনি খেলা হয়। ভালো জামাকাপড় পরা মানুষ গাড়িতে চড়বে, আর মলিন জামাকাপড় পরা মানুষ গাড়ি চলাবে। আমাকে এক শিক্ষিত লোক অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আপনি কি কারণে চালাচ্ছেন? আমার জবাব তৈরিই থাকে।