The Pioneers Of Progress: Mehedi Alam

I was reminiscing my childhood days: whenever my father bought me something, he wrote down my name on the receipt with the price. But on that day, I wrote down my father's name on the phone purchase receipt and gave it to him with pride.

*Name: Mehedi Alam
*Hometown: Brahmanbaria

Tell us something about yourself

I was born and brought up in Tejkhali, Brahmanbaria. Since childhood, I was quite unruly and had little concerns over my academics. My mother was always worried about whether I would be able to pass my exams or not. My academics were poor as I was quite restless. Since 2006, my father used live in Dhaka city. Thus, my mother decided to send me to Dhaka city to avail better opportunities for my education. However, my father didn't want me to come to Dhaka as the living expenses are high in comparison with our hometown. My mother was always concerned about my future. Thus, she encouraged me a lot to get better at my academics. No one is ever bothered about the struggles of the middle class. It was a miracle as to how a family of five survived with the little income earned by my father. Any snacks on top of three meals a day - even biscuits – were a luxury. My childish mind hardly understood the harsh reality that my father’s hands were tied, that he could not fulfill our cravings even if he wanted to.

How did you come to know about Pathao?

Right after the completion of my diploma, I set up a small online shop to sell gadgets and accessories and had to bicycle throughout the city to purchase and deliver products, all the while making sure my customers were satisfied. I’m not very fit and the excessive cycling took a severe toll on my health. At that time, I was completely dependent on my online business. Therefore, I had to figure out a solution immediately. I gathered up the courage to ask Baba to lend me some money. It was a pretty big decision since the money would have to be repaid in numerous installments. When he saw that my online business was going well, Baba agreed to help me. I wanted to buy a secondhand motorcycle from a friend of mine. Luckily, he agreed. He sold it to me, gave me a great deal, and even taught me how to ride it. Just after getting used to motorcycling, I got my learners license. By that time, a event was going on titled ‘Ashlei 500’ by Pathao. I went to that event and signed up as a Pathao Rider. Since then, I have been sharing rides on Pathao. Currently, I have a full time job and I share rides when I am free.

How much of your life has changed due to Pathao?

My family has always supported me throughout my life. Even though we had very little, my parents always strived to cater to my needs: be it the bicycle, with which I began my online business, or the loan for the motorcycle, which was certainly a financial toll for my family. The moment I began earning some extra money, I always contributed to my family. I know that I never would be able to return back all the effort and the hard work that my parents spent behind me.
My father was always curious about smartphones. We often had discussions about new smartphones and their features. One day, right after work, I asked my father to hop on my bike and we visited the nearest mobile phone shop. I happily asked him to choose any phone from the shop. He chose a Symphony tablet phone since he loved large screen phones. I was reminiscing my childhood days: whenever my father bought me something, he wrote down my name on the receipt with the price. But on that day, I wrote down my father's name on the phone purchase receipt and gave it to him with pride. I would never forget that priceless moment.
Pathao has helped me bring my childhood dreams to reality. I have been able to put smile on my family’s face, thanks to Pathao. Right now, I am saving money for my soon-to-be-born niece, so that I can buy her a lot of presents.

অগ্রযাত্রার অগ্রদূতঃ মেহেদী আলম

মনে পড়লো আগের কথা, যখনই বাবা আমাকে কোনো কিছু কিনে দিতেন, রিসিটে আমার নাম লেখিয়ে নিজে দাম দিতেন। আজ গর্বের সাথে আমি বাবার নাম রিসিটে লেখিয়ে আমি দাম দিলাম।

*নাম:মেহেদি আলম
*বাড়ি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আপনার সম্পর্কে কিছু বলুন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তেজখালীতে বড় হই আমি। ছোটবেলা থেকেই অনেক দুষ্টু ছিলাম, পড়াশোনায় মন ছিলোনা তেমন। মা বড় চিন্তায় থাকতো পাস করবো কিনা। এতো দৌড়ঝাঁপের মাঝে আমার রেজাল্ট খারাপ হতে থাকে। সেই ২০০৬ সালের কথা, আমার বাবা তখন একলা এই বিশাল ঢাকা শহরে থাকতেন। শেষমেশ আমার মা আমাকে ভালোভাবে পড়াশোনা করানোর জন্য ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। ঢাকায় খরচা গ্রাম থেকে অনেক বেশি, এজন্য প্রথমে বাবা চাননি যে আমরা আসি। অনেক চেষ্টার পর মা তার মন গলালেন এবং আমরা ঢাকায় এসে পড়লাম। মায়ের সার্বক্ষণিক ভাবনা ছিল আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে। তিনি আমাকে পড়াশোনায় ভালো করানোর জন্য অতিমাত্রায় জোর দিতে লাগলেন। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ত্যাগ কেউ গোনায় ধরে না। আমার বাবার সেই সামান্য উপার্জনে পাঁচজনের সংসার চালানো ছিল যেন একটি অবিশ্বাস্য ব্যাপার। তখনকার দিনগুলোতে তিন বেলা খাবার ছাড়া খুচরা খাবার যেমন বিস্কুটও ছিল একটি মহার্ঘ্য বস্তু। কিন্তু তখন ছোট ছিলাম অনেক সময়েই বুঝতে চাইতাম না যে বাবার হাতও বাঁধা, আমাদের সকল আবদার পূরণ করতে চাইলেই পারতেন না।

পাঠাও সম্পর্কে কিভাবে জানতে পারলেন?

ডিপ্লোমা শেষ করে গ্যাজেটস ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র নিয়ে একটা ছোট অনলাইন দোকান চালাতাম। সারা শহরে সাইকেলে চালিয়ে আমার কাস্টমারদের জন্য পণ্য কিনতাম ও ডেলিভারি দিতাম। দুর্ভাগ্যক্রমে আমি খুব স্বাস্থ্যবান নই তাই সারাদিনের সাইকেল চালানো আমার শরীরের উপর ভয়ানক চাপ ফেলতে থাকে। একপর্যায়ে, যখন আমার বাবা আর্থিকভাবে একটু স্বাবলম্বী হলেন, আমি মনে সাহস জুগিয়ে গেলাম তার কাছে একটু কিছু টাকা ধার চাইতে, যাতে আমি বন্ধুর কাছ থেকে একটা সেকেন্ড হ্যান্ড বাইক কিনতে পারি। অনেক বড় একটা সিদ্ধান্ত ছিল এটা, বেশ অনেক ইনস্টলমেন্টের মাধ্যমে টাকাটা পরিশোধ করতে হতো আমাকে। বাবা যখন দেখলেন যে আমার অনলাইন ব্যবসাটি ভালোই চলছে, তিনি রাজি হলেন। ভাগ্যবশত আমার বন্ধু রাজি ছিল আমাকে সহজ শর্তে বিক্রি করতে, সেইসাথে আমাকে বাইক চালানো ও সে শেখাল। একটু অভ্যস্ত হতেই আমার লার্নার্স পারমিট পেলাম হাতে। সেইসময়ে পাঠাও এর "আসলেই ৫০০" নামের একটি ইভেন্ট চলছিল। সেখানে গিয়ে আমি রাইডার হিসেবে সাইন আপ করলাম এবং এরপর থেকেই আমি রাইড দিয়ে চলেছি। বর্তমানে আমি ফুল টাইম চাকরি পেয়েছি তাই শুধুমাত্র অবসর সময়ে রাইড দিতে পারি।

পাঠাও এর মাধ্যমে কিভাবে আপনার জীবন পরিবর্তিত হয়েছে?

আমার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আমার পরিবার আমাকে সমর্থন করেছে। এতো কম থাকা সত্ত্বেও আমার কোনো ইচ্ছা পূরণ করতে আমার মা বাবা এতটুকুও দ্বিধা বোধ করেননি। হোক তা সাইকেল যেটা চালিয়ে আমি আমার ব্যবসা চালিয়েছি, হোক তা মোটরসাইকেলের জন্য ধার, যা কিনা আমার মা বাবার সাধ্যের বাইরে ছিল। তাই যখন থেকেই আমি একটু এক্সট্রা উপার্জন করতে পেরেছি আমি সামান্য চেষ্টা করেছি আমার মা বাবাকে কিছু দেয়ার। যদিও আমি কোনোভাবেই তাদের ঋণ শোধ করতে পারবোনা। আমার বাবা সবসময়ই স্মার্ট ফোনের ব্যাপারে কৌতূহলী ছিলেন। যেহেতু আমি এসব ব্যাপারে বেশ অভিজ্ঞ তাই আমরা সবসময়ই এসব নিয়ে আলাপ করতাম, নতুন সেট, দাম, ফিচার ইত্যাদি।
আমার বাবা তেমন কিছু জানেন না ফোন নিয়ে। তবুও তিনি বড় একটা স্ক্রিনওয়ালা স্মার্ট ফোন খুব পছন্দ করেন। উনি কখনও প্রকাশ্যে চাননি কিছু। এক সন্ধ্যায় কাজের পরে, বাসায় এসেই আমি বাবাকে বললাম আমার সঙ্গে বের হতে। মোটরবাইক চেপে চললাম সবচেয়ে কাছের ফোনের শোরুমে। বাবাকে বললাম "বাবা যেটা ভালো লাগে পছন্দ করেন"। তিনি সারা শোরুম ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলেন। বড় স্ক্রিন তার ভালো লাগে, তাই তিনি সিম্ফনি ট্যাবলেট পছন্দ করলেন। মনে পড়লো আগের কথা, যখনই বাবা আমাকে কোনো কিছু কিনে দিতেন, রিসিটে আমার নাম লেখিয়ে নিজে দাম দিতেন। আজ গর্বের সাথে আমি বাবার নাম রিসিটে লেখিয়ে আমি দাম দিলাম। আমার কাছে এই মুহূর্তটি ছিল একেবারেই অমূল্য।
পাঠাও আমাকে আমার ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণ করতে সাহায্য করেছে। আমার পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে সাহায্য করেছে যেটা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি সম্ভব হবে। এখন আমি আমার হবু ভাগ্নের জন্য টাকা জমিয়ে চলেছি, মামা হিসেবে তাকে অনেক অনেক উপহার কিনে দেবার জন্য!